Header Ads

Header ADS

কোন প্রাণীর শরীরে শীত লাগেনা? Educational story | Wisdom Story


 

কোন প্রাণীর শরীরে শীত লাগেনা

পৃথিবীতে বেশ কিছু প্রাণী আছে যারা বরফে ঢাকা চরম ঠান্ডা যুক্ত অঞ্চলে বসবাস করে তবুও তাদের শরীরে শীত তেমন একটা প্রভাব ফেলে না। বলা যায় তাদের শরীরে শীত অনুভব হয় না বা তারা শীতের প্রতিকূলতাকে সহজেই সহ্য করতে সক্ষম। এই ধরনের প্রাণীরা তাদের শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন, শারীরিক গঠন, এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার মাধ্যমে শীতকে প্রতিহত করে। প্রকৃতিতে এই প্রাণীদের অভিযোজন কৌশল আমাদের শেখায় কীভাবে পরিবেশগত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা যায়। তাদের অধ্যয়ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে পারে। এরকম কয়েকটি প্রাণীর নাম এবং বৈশিষ্ট্য আপনাদের মাঝে তুলে ধরছি। 1. মেরু ভাল্লুক (Polar Bear): মেরু ভাল্লুকের শরীরে শীত না লাগার প্রধান কারণ হলো তাদের গায়ে দু'স্তরের লোম থাকে। ভেতরের লোম ঘন ও নরম, যা তাপ ধরে রাখে। বাইরের লোম দীর্ঘ এবং জলরোধী, যা বরফ ও ঠান্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষা দেয়। এই লোমগুলো সূর্যের আলোর তাপ শোষণ করে এবং তা ত্বকের কাছে ধরে রাখে। মেরু ভাল্লুকের ত্বকের নিচে ১০ সেন্টিমিটারের বেশি পুরু চর্বির স্তর থাকে। এটি ঠান্ডা পরিবেশে দেহের তাপ ধরে রাখে এবং ঠান্ডা পানি থেকে সুরক্ষা দেয়। মেরু ভাল্লুকের শরীর বড়, পৃষ্ঠতলের তুলনায় ভলিউম বেশি। এর ফলে তাপ হারানোর হার কমে। তাদের ছোট কান ও লম্বাটে মাথা তাপহানি কমাতে সাহায্য করে। তাদের লোম জলরোধী হওয়ায় বরফে বা পানিতে থাকলেও শরীর ভিজে যায় না। ফলে তাপ বজায় থাকে। মেরু ভাল্লুক সাধারণত সিল মাছ খায়, যা উচ্চ চর্বি ও ক্যালোরি সমৃদ্ধ। এটি তাদের শক্তি জোগায় এবং দেহ গরম রাখে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে মেরু ভাল্লুক শীতল আর্কটিক পরিবেশে সহজেই বেঁচে থাকতে পারে এবং শীত অনুভব করে না। 2. পেঙ্গুইন: পেঙ্গুইনের শরীরে শীত না লাগার পেছনে বেশ কিছু বিশেষ অভিযোজন রয়েছে, যা তাদেরকে ঠান্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। পেঙ্গুইনের শরীর ঘন এবং জলরোধী পালকে আবৃত। ভেতরের ঘন লোম যা শরীরের তাপ ধরে রাখে। বাইরের পালক শক্ত এবং জলরোধী, যা ঠান্ডা বাতাস এবং পানির সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষা দেয়। পেঙ্গুইনের চামড়ার নিচে পুরু চর্বির স্তর থাকে। এটি তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ঠান্ডা পরিবেশে শরীরকে গরম রাখে। পেঙ্গুইনের পালক থেকে বিশেষ ধরনের তেল নিঃসৃত হয়। এই তেল পালককে জলরোধী করে তোলে, যা তাদের শরীরকে ঠান্ডা পানি থেকে সুরক্ষিত রাখে। পেঙ্গুইনরা ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঝাঁক বেঁধে একসঙ্গে থাকে। এর ফলে তাদের শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমে এবং গোষ্ঠীজীবনের মাধ্যমে উষ্ণতা বজায় থাকে। পেঙ্গুইনের পায়ে "কাউন্টারকারেন্ট হিট এক্সচেঞ্জ" পদ্ধতি কাজ করে। এতে পায়ের রক্তনালীতে ঠান্ডা ও গরম রক্তের আদান-প্রদান হয়, যা পা দিয়ে তাপ হারানো কমিয়ে দেয়। পেঙ্গুইনের পালকগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি ওভারল্যাপ করে থাকে, যা শক্তিশালী অন্তরক (insulation) স্তর তৈরি করে। এই অভিযোজনগুলো পেঙ্গুইনদের তীব্র ঠান্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষভাবে সক্ষম করে তোলে। 3. আর্কটিক শিয়াল (Arctic Fox): আর্কটিক শিয়ালের শরীরে শীত না লাগার প্রধান কারণ হলো এর বিশেষ অভিযোজন, যা ঠান্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য উপযোগী।আর্কটিক ফক্সের লোম অত্যন্ত পুরু এবং ঘন। শীতকালে তাদের লোম আরও ঘন হয়ে যায়, যা শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই লোমের বাইরের স্তর ঠান্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষা দেয়, আর ভেতরের স্তর তাপ ধরে রাখে। তাদের শরীর ছোট, গোলাকার এবং কানও ছোট। এই গঠনের ফলে তাদের ত্বকের পৃষ্ঠের তুলনায় শরীরের ভলিউম বেশি হয়। এটি তাপের ক্ষতি কমায়, যা বার্গম্যান এবং অ্যালেনের নিয়ম অনুসারে ঠান্ডা পরিবেশের প্রাণীদের জন্য উপকারী। তাদের পায়ের প্যাডেও লোম থাকে, যা বরফ এবং ঠান্ডা মাটির সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষা দেয়। আর্কটিক ফক্সের শরীরে মোটা চর্বির স্তর থাকে। এটি তাদের শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শক্তির উৎস হিসেবেও কাজ করে। আর্কটিক ফক্সের দেহের তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থির থাকে। এমনকি -৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও তারা নিজেদের গরম রাখতে সক্ষম। এই অভিযোজনগুলো তাদের আর্কটিক পরিবেশে শীত না লাগিয়ে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।






No comments

Powered by Blogger.