Header Ads

Header ADS

বিশ্বের কয়টি দেশে ইসকন নিষিদ্ধ? Educational story | Wisdom Story


 


ইসকন (ISKCON) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয়ভাবে প্রচার কার্যক্রম চালালেও, কিছু দেশে এটি নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর কারণ সাধারণত ধর্মীয়, রাজনৈতিক, বা সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভিডিওতে এমন কিছু দেশের নাম উল্লেখ করব যে দেশগুলোতে ইসকন সংগঠনটি নিষিদ্ধ

১. রাশিয়া:
২০১১ সালে মস্কোতে ইসকনের একটি মন্দির নির্মাণে স্থানীয় রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চ বিরোধিতা করে।
 তাদের দাবি ছিল, ইসকনের কার্যক্রম রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খ্রিস্টান ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাশিয়ায় কিছু মানুষ ইসকনকে একটি "ধর্মীয় গোষ্ঠী" বা "কাল্ট" বলে মনে করে, 
যা ঐতিহ্যবাহী ধর্মকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণে রাশিয়ায় কিছু অঞ্চলে ইস্কন নিষিদ্ধ।

২. চীন:
চীন সরকার ধর্মীয় সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। 
ইসকনকে একটি বিদেশি ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে দেখা হয় এবং এটি পরিচালনার অনুমতি নেই।
চীনের সরকার সাধারণত বৈদেশিক ধর্মীয় প্রভাবকে সীমিত করতে চায়।
তাই ইসকনের মতো সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

৩. মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়ায় ইসকনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। কারণ, দেশটি একটি মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্র এবং অমুসলিমদের ধর্ম প্রচার নিয়ন্ত্রিত।
কিছু স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে ইসকনের কার্যক্রম স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. তাজিকিস্তান:
তাজিকিস্তানের সরকার ইসকনসহ অনেক ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। 
কারণ তারা মনে করে, এ ধরনের সংগঠন সামাজিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

৫. সৌদি আরব:
সৌদি আরবে অমুসলিমদের ধর্ম প্রচার এবং ধর্মীয় কার্যক্রম চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইসকনের মূর্তি পূজা, হরিনাম সংকীর্তন, এবং অন্যান্য ভক্তি কার্যক্রম ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হয়।
ধর্মীয় বৈচিত্র্যের উপর কড়া বিধিনিষেধের কারণে ইসকনের কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।

৬. ইরান:
ইরানে শুধুমাত্র ইসলামিক শিয়া ধর্মের প্রচার এবং চর্চা সরকারিভাবে অনুমোদিত।
অ-ইসলামিক ধর্মীয় সংগঠন, যেমন ইসকন, সেখানে নিষিদ্ধ।
মূর্তি পূজা ও ধর্মান্তরণের প্রচেষ্টা ইসলামিক আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৭. কুয়েত:
কুয়েতে ইসকনের কার্যক্রম সীমিত।
অ-ইসলামিক ধর্মীয় সংগঠনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায় না, তবে ব্যক্তিগত স্তরে হিন্দু সম্প্রদায় কিছুটা ধর্মীয় চর্চা করতে পারে।
প্রকাশ্যে ইসকনের প্রচার বা মন্দির স্থাপন নিষিদ্ধ।

৮. কাতার:
কাতারে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হলেও ইসকনের সংগঠিত কার্যক্রম বা প্রচার নিষিদ্ধ।
সরকার কেবল সীমিত ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চার অনুমতি দেয়।

৯. বাহরাইন:
বাহরাইনে কিছু হিন্দু সম্প্রদায় আছে, এবং তারা ব্যক্তিগতভাবে ধর্ম পালন করতে পারে।
তবে ইসকনের সংগঠিত কার্যক্রম বা প্রকাশ্যে হরিনাম সংকীর্তন করা নিষিদ্ধ।


১০. ওমান:
ওমানে ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত, এবং অ-ইসলামিক ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ।
ইসকন সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয় এবং তাদের কার্যক্রম সীমিত।

কারণসমূহ:
ইসলামী শরিয়া আইন বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশে অনুসরণ করা হয়, যা মূর্তি পূজা বা অন্য ধর্মীয় আচারকে অনুমোদন দেয় না।
ইসলামিক দেশে অন্য ধর্ম প্রচার বা ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের ইসলামিক ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি বজায় রাখতে চায়। 
ইসকনের কার্যক্রমকে তারা বিদেশি প্রভাব হিসেবে দেখে।
অ-ইসলামিক ধর্মীয় সংগঠনগুলো কখনো কখনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে বলে মনে করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতিতে, ইসকন বা হিন্দুধর্মের চর্চা সাধারণত ব্যক্তিগত স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে, 
তবে প্রকাশ্যে বা সংগঠিতভাবে এর প্রচার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ।

সাধারণ কারণসমূহ:
অনেক দেশে ইসকনের কার্যক্রম স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিরোধ সৃষ্টি করে।
ইসকনের ভক্তি আন্দোলন এবং হিন্দুধর্মীয় প্রথা স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করা হয়।
কিছু সরকার ইসকনকে বিদেশি প্রভাব হিসেবে দেখে এবং এটি সামাজিক বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করে।
ইসকন এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অনেক সময় সাংস্কৃতিক অজ্ঞতা বা রাজনৈতিক ভয় বলে চিহ্নিত করে এবং তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চায়।


No comments

Powered by Blogger.